মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

দু’ শতাধিক বছরের পূর্বের স্বাক্ষী বাউফলে জমিদার মহেন্দ্র ও রাজেন্দ্র রায় চৌধুরী কাছারি বাড়ি

পুরাকীর্তির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:

 

দু’ শতাধিক বছরের পূর্বের সাক্ষী বাউফল উপজেলা সদরে ঐতিহাসিক নির্দশন জমিদার মহেন্দ্র রায় চৌধুরী ও রাজেন্দ্র রায় চৌধুরী কাছারি বাড়ি। বর্তমানে উপজেলা ভূমি অফিস হিসাবে পরিচিতি। জনশ্রুতি হচ্ছে, দু’ শত বছরের পূর্বে ১৮ শতকের কথা। ফরিদপুর জেলার সদরপুর বাইশরশি থেকে দক্ষিণা রঞ্জন রায় ব্যবসার জন্য চন্দ্রদ্বীপ আসে। চতুর্দশ শতাব্দীতে গৌড়ের সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহর শাসনামলে বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনার কিছু অংশ নিয়ে চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য ছিল। মেঘনার অববাহিকা বর্তমান ভোলা ও বাউফলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রমত্তা তেঁতুলিয়া নদীর পশ্চিম পাড়ে বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া নামক স্থানে চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের রাজধানী ছিল। চন্দ্রদ্বীপ তেঁতুলিয়া নদীতে গয়না পারি দিতে গিয়ে গুপ্তধন পেয়ে অধিক সম্পদের মালিক হয়। ব্রিটিশদের থেকে অত্র এলাকায় জমি ক্রয় করে রায় চৌধারিত্ব উপাধি লাভ করে। দক্ষিণা রঞ্জন রায় দু’ ছেলে মহেন্দ্র রায় বড় হিস্যাই, রাজেন্দ্র রায় ছোট হিস্যাই হিসাবে অত্র এলাকায় স্বীকৃতি পায়। চন্দ্রদ্বীপ এলাকা বাউফলে জমিদারী শুরু করে। জমিদারিত্ব টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে নিজ এলাকা থেকে এলাকা লোক নিয়ে আসে এবং বসতি শুরু করে। প্রজাদের মাধ্যমে অত্র এলাকায় কাছারি থেকে প্রজাদের মাধ্যমে খাজনা গ্রহণ করতেন।

প্রতিবছর প্রজাদের মাধ্যমে খাজনা গ্রহণ এবং দুর্গাপূজাসহ হিন্দুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সময় ফরিদপুর থেকে গয়নাযোগে এলাকায় আসতেন। থাকতেন মাস ব্যাপী এবং খাস কামড়ায়। খাস কামড়া প্রধান কাছারি / অফিস জন্য উপজেলা সদরে দুটি স্থাপতি তোলেন। উপজেলা ভূমি অফিসটি বাউফল মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের জে এল নং ৮৭ দাগ নং ১১২০ও ১১২১ তে ১১.৯৭ একর জমির উপর অবস্থিত। অধিকাংশ অফিস ঘরই জমিদারী এ ্েস্টটের পুরাতন দালানে অবস্থিত।

উপজেলা সদর প্রধান সড়ক দক্ষিণ পাশে ২২ একর জমির উপর মহেন্দ্র রাজেন্দ্র রায়ের জমিদার বাড়ি। রয়েছে দু শতাধিক বছরের পূর্বে নির্মিত ইটের তৈরি দুটি পাকা দালান। দেড় ইঞ্চি পাকা ইটের তৈরি প্রায় দেড় ফুট পুরো দেয়াল। ভিতরে ৩ টি কক্ষ। সামনে জোড়া বাধা ৬ টি গম্মুজ। একটি দক্ষিণ ভিটে। দক্ষিণ ভিটে দালান সামনে বসার জায়গা রয়েছে বসার সাথে দুটি হাতির স্থাপনা। পশ্চিম পাশে রয়েছে অনুরূপ আরেকটি দালান। সামনে ৮ চালা বিশিষ্ট উচু নাটঘর রয়েছে। এখানে বসে যাত্রা-পালাসহ নাটক হতো। কাছারি বাড়িতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জমিদার বাড়িতে হতো নানা অনুষ্ঠান। বিশেষ করে দুর্গাপুজা উপলক্ষ্যে মাস ব্যাপী যাত্রা অনুষ্ঠান হয়েছিল। দেওয়া হতো মহিষবলী। মাসব্যাপী যাত্রার রিহার্সেল দেওয়া হতো। দু ঘরের সামনে বসে জমিদার তার পরিবার নিয়ে এ অনুষ্ঠান উপভোগ করেতন।

এ সময় অকালের দেশ, বাঙ্গালীরক্ততিলক, সমাজের বই, কাঞ্চন মালা, বাঙ্গালী বিচারক, সোহরাফ রুস্তুম দর্পহারী, এজিদ জয়নাল উদ্ধার, বঙ্গেরবর্গী প্রভৃতি হতো। এলাকার বাইরে থেকে আসা যাত্রপালা দলের পাশাপাশি স্থানীয় ভাবে যারা অংশগ্রহণ করতে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, মাখম লাল সাহা, মনোরঞ্জন শীল, রাজস্বর রায়, অনন্ত ঘোষ, মেঘনাথ ঘোষ, চিত্র রঞ্জন সাহা, বিনোদ বিহারীসাহা। কাছারি বাড়ি নিরাপত্তার্থে চার প্রাচীর রয়েছে, প্রাচীর পূর্বপাশে বতর্মান প্রবেশপথ ইটের তোরণ, উত্তর পাশে রির্জাভ ঘাটে গেট পশ্চিম পাশে ঘেট রয়েছে। ইটের র্নিমান প্রাচীর ১০ ইঞ্চি প্রশস্ত উচু হচ্ছে ৯ ফুট। এ বাড়ীর সংলগ্ন রয়েছে ২ টি পুকুর। জমিদার বাড়ী উত্তর পাশে পুকুর রিজার্ভ ছিল। পুকুরের দক্ষিণ পাশে বাধাই ঘাট। এ পুকুরে পানি ছিল রির্জাভ। কেউ ব্যবহার করতে পারতে না। কেউ পানি খেলেও পা ধৌত করতো না। পশ্চিম পাশে বড়ো একটি পুকুর। যা ছিল সবার জন্য উম্মুক্ত।